kollan, momo
মফস্বলের মেধাবী ছাত্র অয়ন, উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হয়েছে রাজধানীর একটি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে, পড়াশোনায় অন্যদের ছাড়িয়ে গেলেও বেশভুষা ও চালচলনে আধুনিক শহরের সাথে যে একেবারেই মানানসই নয়। যা বলবে, যা করবে, যা শুনবে সব কিছুই পড়াশোনাকে ঘিরেই হবে। অয়নের পোশাক-পরিচ্ছদ নিয়ে তার বন্ধুরা অনেকেই পেছনে হাসাহাসি করে। কথায় আছে ‘যার নয়নে যারে লাগে ভালো’। এই সরলতাকে খুবই পছন্দ করে ফেলে তার সহপাঠী নবনী।
নবনীর বাবা পৃথিবীতে নেই, মায়ের আদরেই বেড়ে উঠেছে ও। নবনী একটু স্পষ্টভাষী। অয়নকে ভালো লাগার কথা সরাসরি তাকে বলে দেয়, যা শুনে সহজ-সরল অয়ন ভড়কে যায়, কয়েকদিন সময় নেয়। কারণ এ বিষয়ে তার কোনো পড়াশোনা নেই। এ কদিন পড়াশোনা করে পৃথিবীর কোথায় কোন লেখক এই পরিস্থিতিতে কি করতে বলেছে তা ঘেটে বের করে সিদ্ধান্ত নেবে। ঘটনা প্রবাহে দুজন ভালোবাসার একই সরল রেখায় চলতে থাকে। অয়নের সারল্য ও অত্যধিক পড়াশোনার ঝোঁক নবনীকে কখনো আনন্দ দেয়, কখনো মজা পায়, কখনো আবার রাগিয়ে তোলে।
momo, salal, shalol
অন্যদিকে শান্ত এক সময়ের তুখোড় মেধাবী ছাত্র। যার সঙ্গ পাওয়ার জন্য মেয়েরা আকাঙ্ক্ষা করত। মা-বাবার বিচ্ছেদ, পারিবারিক অশান্তি ও নানা কারণে এখন বখিয়ে গেছে। জড়িয়ে গেছে আন্ডার-ওয়ার্ল্ডের সাথে। দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে যা বিস্তার লাভ করেছে বিদেশে। ব্যস্ততম রাস্তায় পতিপক্ষের সাথে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় হঠাৎই সামনে এসে পড়ে শান্তর ছোটবেলার আকাঙ্ক্ষিত নারী নবনী, সাথে ছিল তার বান্ধবী যূথী, যে আবার পছন্দ করে শান্তর বন্ধুকে। পুরোনো ভালোবাসা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে শান্তর। নবনীরও কিছুটা দুর্বলতা ছিল শান্তর প্রতি। শান্ত পথ খুঁজতে থাকে নবনীকে নতুন করে কাছে পাওয়ার, ভেতরের সব কষ্টগুলোকে তার সঙ্গ পেয়ে ভুলে থাকার। নবনীকে কাছে পাওয়ার জন্য টোপ হিসেবে ব্যবহার করে নবনীর বান্ধবী যূথীকে। যূথী সে টোপ সাদরে গ্রহণ করে। কারণ সেও তাতে লাভবান হবে। শান্তর মা সেজে ফোন করে নবনীকে। নবনী জানতে পারে আর মাত্র কয়েক মাস আয়ু আছে শান্তর। মরণঘাতী হরমোনজনিত এক রোগ তার গায়ে বাসা বেঁধেছে। আবেগতারিত হয়ে পড়ে নবনী।
নবনী অয়নকে বিষয়টি অবহিত করে। সহজ সরল অয়ন শুধু তাকে সাবধান করে। কারণ অয়ন শান্তর এই বখিয়ে যাওয়া সম্পর্কে নবনীর কাছে সবই শোনে। শান্ত নবনীকে ফোন করে নানা কথায় তাকে দুর্বল করার চেষ্টা করে। অসুস্থতার ভান করে, নবনী সেই ফাঁদে পা দেয়। নবনীকে দিয়ে বিভিন্ন কথা বলিয়ে নেয় যা শান্ত রেকর্ড করে রাখে। দূরত্ব বাড়তে থাকে অয়ন এবং নবনীর, ফোনে ব্যস্ত পাওয়া যায় নবনীকে। প্রায়ই দেখা করতে হয় শান্তর সাথে। প্রাথমিকভাবে নবনী সবই অয়নকে অবহিত করত। কিন্তু একপর্যায়ে তা সম্ভব হয় না। শুরু হয়ে যায় মিথ্যে বলা। অয়নের কাছে তা ধরা পড়ে যায়। সহজ সরল অয়ন ক্ষমায় বিশ্বাস করে। আর নবনী শুধু বলে “সব মানুষের জীবনে একটি সফট কর্ণার আছে, শান্ত আমার জীবনে তা, সেতো বেশিদিন বাচবে না”।
kollan, momo
অয়ন নবনীকে বুঝাতে চাইলে ক্ষেপে ওঠে নবনী। অয়ন নবনীর বিশেষ মুহূর্তগুলোয় ভাগ বসিয়েছে শান্ত। তেমনি একটি বিশেষ মুহূর্তে অর্থাৎ নবনীর জন্মদিনেও অয়ন তাকে কাছে পায় না। শান্ত, নবনীর এই বিশেষ দিনে তার অনেক ঘনিষ্ঠ হয়ে যায়। কী ঘটে যাচ্ছে নবনীর জীবনে সে বুঝতে পারে না। কিছু ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত পার হওয়ার পর নবনী অয়নের কথা ভাবতে থাকে। অয়ন অন্যদিকে নবনীর জন্য চোখের জল ফেলে। রিকশায় বসে পাশাপাশি ঘনিষ্ঠ হয়ে বাড়ি ফিরছে শান্ত-নবনী। নবনী কিছু বলতে ভুলে গেছে। বাধা দেওয়ার শক্তি হারিয়ে ফেলেছে। এমন সময় ঘঠে আসল ঘটনা। শান্তর প্রতিপক্ষরা তাকে আক্রমণ করে বসে, পালাতে থাকে দুজন। একসময় শান্ত তাকে ছেড়ে অন্যদিকে পালিয়ে যায়। হতবাক নবনী! কি ঘটলো তার জীবনে। সে কি ফাঁদে পা দিলো? ছুটে যায় অয়নের কাছে। কি করবে অয়ন? কি ঘটবে নবনীর জীবনে? শান্ত এখন কোথায় আছে? সব কিছুর সমাধান পাওয়া যাবে ‘বিরহানন্দ’ নাটকটিতে।
ভাঁটফুল অডিও ভিজ্যুয়াল-এর ব্যানারে আবু হায়াত মাহমুদ-এর রচনা ও পরিচালনায় নির্মিত হয়েছে এ একক নাটক ‘বিরহানন্দ’। নাটকটিতে অভিনয় করেছেন- সজল, মম, কল্যাণ, সৈকত, তাওহিদ, শুভেচ্ছাসহ আরো অনেকে।
abu hayat mahmud, sajal, sojol noor
পরিচালক আবু হায়াত মাহমুদ জানান, নাটকটির শুটিং শেষ, এ মুহূর্তে এটির এডিটিং চলছে। মূলত নাটকটির পাণ্ডুলিপি, নির্মাণশৈলী, অভিনয় বৈচিত্র্যের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। নাটকটি টিমওয়ার্কের মধ্য দিয়ে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
নাটকের গল্প সম্পর্কে তিনি বলেন, The best proof of love is Trust. Never trust someone who lies to you, Never lie to someone who trusts you. ভালোবাসার মূল ভিত্তি বিশ্বাস। ভালোবাসার প্রতি বিশ্বাস, সচেতনতা আর পরিচর্যার অভাবে কি পরিনতি হতে পারে সেবার্তাই দেওয়া হয়েছে নাটকটিতে। ভালোবাসার মানুষের প্রতি পরিপূর্ণ ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা এ নাটকের পটভূমি।
 
Top